আল মাহমুদ

- বাংলা - বাংলা সাহিত্য | NCTB BOOK
1.5k

বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি আল মাহমুদ। প্রথম পর্যায়ে তিনি গ্রামবাংলার গণমানুষের প্রবহমান জীবনধারা ও তার পটভূমি থেকে কাব্য রচনার উপাদান সংগ্রহ করেন, পরবর্তীতে তাঁর কবিতায় শহুরে জীবনের ছায়াপাত ঘটে। তিনি কবিতায় বাংলাদেশের লোকজ ঐতিহ্য ও লোকশব্দ ব্যবহারে কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি জাসদ (জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল) প্রতিষ্ঠিত ‘দৈনিক গণকণ্ঠ’ প্রকাশিত হলে তিনি এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক হন। ১৯৭৪ সালে তৎকালীন সরকারের নির্দেশে এ পত্রিকা বন্ধ করা হয় এবং সম্পাদককে গ্রেফতার করা হয় । জেলে থাকাকালে তিনি মার্কসবাদী আদর্শকে পরিত্যাগ করে ইসলামি আদর্শ গ্রহণ করেন ।

  • আল মাহমুদ ১১ জুলাই, ১৯৩৬ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
  • তাঁর প্রকৃত নাম মির আব্দুস শুকুর আল মাহমুদ।
  • তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা- মাধ্যমিক পাস।
  • বঙ্গবন্ধুর সুপারিশে তিনি শিল্পকলা একাডেমির অফিসার পদে যোগদান করেন এবং ১৯৯৩ সালে পরিচালক হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন। অবসর গ্রহণের পর চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত 'দৈনিক কর্ণফুলি' পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে যোগদান করেন।
  • তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৮), একুশে পদক (১৯৮৬), নাসিরউদ্দিন স্বর্ণপদক (১৯৯০) পান।
  • তিনি ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সালে ধানমন্ডির ইবনে সিনা হাসপাতালে শুক্রবার রাত ১১:০৫ মিনিটে ইন্তেকাল করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো:

'লোক লোকান্তর' (১৯৬৩): এটি তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।

'সোনালী কাবিন' (১৯৭৩): এটির প্রথমে নাম ছিলো 'অবগাহনের শব্দ'। পরে তিনি এটির নামকরণ করেন 'সোনালী কাবিন'। গ্রামীণ আবহে রচিত ৪৪টি কবিতার সংকলনে এ কাব্যগ্রন্থে তাঁর কবি প্রতিভা নিশ্চিত হয়েছে। এতে প্রকাশ পেয়েছে বঞ্চিতের ক্ষোভ, শ্রমিকের ঘাম, কৃষকের পরিশ্রম ও গ্রামীণ আবহ। এটি তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ। এ কাব্যগ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদ 'গোল্ডেন কাবিন' নামে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রকাশিত হয়। এ কাব্যের অন্যতম কবিতা 'প্রত্যাবর্তনের লজ্জা'।

'কালের কলস' (১৯৬৬), 'মায়াবী পর্দা দুলে উঠো' (১৯৭৬), 'অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না' (১৯৮০), 'বখতিয়ারের ঘোড়া' (১৯৮৫), 'আরব্য রজনীর রাজহাঁস' (১৯৮৭), 'প্রহরান্তে পাশফেরা' (১৯৮৮), 'একচক্ষু হরিণ' (১৯৮৯), 'মিথ্যাবাদী রাখাল' (১৯৯৩), 'আমি দূরগামী' (১৯৯৪), 'হৃদয়পুর' (১৯৯৫), 'দোয়েল ও দয়িতা' (১৯৯৬), 'দ্বিতীয় ভাঙ্গন' (২০০০), 'নদীর ভিতরে নদী' (২০০১), 'উড়ালকাব্য' (২০০৩), 'না কোনো শূন্যতা মানি না' (২০০৪), 'বিরামপুরের যাত্রী' (২০০৫), 'তোমার জন্য দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী' (২০০৫), 'তুমিই তৃষ্ণা তুমিই পিপাসার জল' (২০০৭), 'সেলাই করা মুখ' (২০০৮), 'পিপাসার বালুচরে' (২০০৮), 'প্রেমপত্র পল্লবে' (২০০৯), 'তোমার রক্তে তোমার গন্ধে' (২০১১), 'পাখির কথায় পাখা মেললাম' (২০১২), 'ইতিহাস দেখো বাঁক ঘুরে গেছে ফের ইতিহাসে' (২০২০)।

আল মাহমুদ রচিত কিশোর সাহিত্য:

'পাখির কাছে ফুলের কাছে' (১৯৮০): এ কিশোর সাহিত্যের কবিতা 'বোশেখ', 'একুশের কবিতা'। 'বোশেখ' কবিতায় কবি বৈশাখের বিধ্বংসী প্রতীকের মধ্য দিয়ে অত্যাচারীর অবসান কামনা করেছেন।

আল মাহমুদ রচিত উপন্যাসগুলো:

'ডাহুকী' (১৯৯২): এটি তাঁর রচিত প্রথম উপন্যাস। এটি অতৃপ্ত দাম্পত্য বিষয়ক কাহিনি। চরিত্র: আতিকা, কেরামত।

'কাবিলের বোন' (১৯৯৩): এটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। পাঁচ পর্বে বিভক্ত এ উপন্যাসে পূর্ব পাকিস্তানে নাগরিক পরিচয়ের সংকট, গণঅভ্যুত্থান, মহান মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের বিমূর্ত প্রকাশ ঘটেছে। চরিত্র: কাবিল, রোকসানা।

'উপমহাদেশ' (১৯৯৩): এটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। যুদ্ধের ভয়াবহতা, হিংস্রতা, যুদ্ধের মাঝে প্রেম, দেশপ্রেম-সবকিছুরই প্রতিচ্ছবি এ উপন্যাস। চরিত্র: হাদী মীর, হামিদা, আনিস, নন্দিনী, সীমা।

'কবি ও কোলাহল' (১৯৯৩), 'পুরুষ সুন্দর' (১৯৯৪), 'আগুনের মেয়ে' (১৯৯৫), 'নিশিন্দা নারী' (১৯৯৫), 'মরু মূষিকের উপত্যকা' (১৯৯৫; কিশোর উপন্যাস), 'যে পারো ভুলিয়ে দাও' (১৯৯৫), 'পুত্র' (২০০০), 'চেহারার চতুরঙ্গ' (২০০১), 'কলঙ্কিনী জ্যোতির্বলয়' (২০০৩), 'ধীরে খাও অজগরী' (২০০৪), 'যে যুদ্ধে কেউ জেতেনি' (২০০৬), 'তুহিন তামান্না উপাখ্যান' (২০০৭), 'তুষের আগুন' (২০০৮), 'জীবন যখন বাঁক ঘোরে' (২০১৮), 'সহোদরা' (২০২০), 'রাগিনী' (২০২০)।

তাঁর গল্পগ্রন্থসমূহ:

'পানকৌড়ির রক্ত' (১৯৭৫), 'সৌরভের কাছে পরাজিত' (১৯৮২), 'গন্ধবণিক' (১৯৮৮), 'ময়ূরীর মুখ' (১৯৯৪), 'নদীর সতীন' (২০০৪), 'ছোট-বড়' (২০০৫), 'চারপাতার প্রেম' (২০০৯), 'সপ্তর্ষী' (২০১৪), 'জলবেশ্যা ও তাহারা' (২০১৫), 'প্রিয় পঞ্চমী' (২০১৬)।

আল মাহমুদ রচিত অন্যান্য সাহিত্য:

আত্মজীবনী:

'যেভাবে বেড়ে উঠি' (১৯৯৭), 'বিচূর্ণ আয়নায় কবির মুখ' (২০০৭)।

প্রবন্ধ:

'দিনযাপন' (১৯৯০), 'কবির আত্মবিশ্বাস' (১৯৯১), 'নারী নিগ্রহ' (১৯৯৭), 'কবিতার জন্য বহুদূর' (১৯৯৭), 'কবিতার জন্য সাত সমুদ্র' (১৯৯৯), 'কবির সৃজন বেদনা' (২০০৫), 'সময়ের সাক্ষী' (২০০৫), ‘বারো মাস তেরো পার্বন (২০০৮)’, 'দশ দিগন্তে উড়াল' (২০০৯), 'কবির কররেখাং (২০০৯), 'কবির মুখ' (২০১৫)।

সম্পাদনা:

'কাফেলা', 'দৈনিক গণকণ্ঠ', 'দৈনিক কর্ণফুলী'।

বিখ্যাত পঙ্ক্তি:

  • আমার মায়ের সোনার নোলক হারিয়ে গেল শেষে
    হেথায় খুঁজি হোথায় খুঁজি সারা বাংলাদেশে।' (নোলক)
  • নারকেলের ঐ লম্বা মাথায় হঠাৎ দেখি কাল
    ডাবের মতো চাঁদ উঠেছে ঠান্ডা ও গোলগাল।
    ছিটকিনিটা আস্তে খুলে পেরিয়ে গেলাম ঘর
    ঝিমধরা এই মস্ত শহর কাঁপছিলো থরথর।
    (পাখির কাছে ফুলের কাছে)
Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

হাসান হাফিজুর রহমান
আল-মাহমুদ
হুমায়ুন আজাদ
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
সারা দুপুর
সোনালী কাবিন
আশায় বসতি
বন্দী শিবির থেকে
Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...